News Title :
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ ও তার সহযোগীর প্রভাব ও সিন্ডিকেট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন পেলেন বিএনপির মনোনয়ন , এলাকাবাসীর স্বস্তি এবার ভোট হবে নিরপেক্ষ, জিততে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে: ফখরুল আসিফ ও মাহফুজের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা তফসিলের আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ শত শত কোটি টাকার টেন্ডার লুটপাটের সম্রাট গণপূর্তের আহসান হাবীব নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চায় জনগণ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে মশাল মিছিল ঐতিহাসিক জুলাই যে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করেছে তা টিকিয়ে রাখতে হবে ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী পেলেন ‘আয়েশা-আমিরুল ট্রাস্ট ফান্ড বৃত্তি’
News Title :
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ ও তার সহযোগীর প্রভাব ও সিন্ডিকেট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন পেলেন বিএনপির মনোনয়ন , এলাকাবাসীর স্বস্তি এবার ভোট হবে নিরপেক্ষ, জিততে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে হবে: ফখরুল আসিফ ও মাহফুজের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা তফসিলের আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ আজ শত শত কোটি টাকার টেন্ডার লুটপাটের সম্রাট গণপূর্তের আহসান হাবীব নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চায় জনগণ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে মশাল মিছিল ঐতিহাসিক জুলাই যে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করেছে তা টিকিয়ে রাখতে হবে ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী পেলেন ‘আয়েশা-আমিরুল ট্রাস্ট ফান্ড বৃত্তি’

শত শত কোটি টাকার টেন্ডার লুটপাটের সম্রাট গণপূর্তের আহসান হাবীব

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 302 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পরও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব এখনো বহাল তবিয়তে। ক্ষমতার ছায়ায় বড় হওয়া এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

টেন্ডারবাণিজ্য ছিল তার রাজত্ব, আর দুর্নীতি ছিল তার পরিচয়পত্র। ক্ষমতা বদলেছে, কিন্তু হাবীবের দাপট কমেনি—উল্টো আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন তিনি।

২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার লুটপাটের সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করে। যে বিভাগে যোগ দেন, সেই বিভাগের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডার চলে যায় তার ‘নিজস্ব দলের’ ঠিকাদারদের হাতে।

নিয়ম-আইন তার কাছে শুধু কাগজে। প্রভাব-প্রতিপত্তি আর কমিশন বাণিজ্যই ছিল তার প্রকৃত খেলা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্তের একজন কর্মকর্তা জানান—

“আহসান হাবীব হলো আওয়ামী আমলের বরপুত্র। তিনি যেখানে থাকেন, সেখানে ঘুষ আর টেন্ডার কমিশন ছাড়া একটা ইটও নড়ে না।”

তার নামে-বেনামে সম্পদের পরিমাণ এত বেশি যে তা গণনা করা সম্ভব নয়। নেপাল, মালয়েশিয়া, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে টাকা পাচারের অভিযোগও বহু আগেই উঠেছে। কিন্তু ক্ষমতার পাহারায় সে সব অভিযোগ সবশেষে ধুলোয় মিশে গেছে।

গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অর্থ জোগান দেওয়া এবং পরিকল্পনায় থাকার অভিযোগও উঠেছে আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে।

রাজধানীর পল্টন থানার কুখ্যাত মামলা নং–৮৭৪-এর ৭০ নম্বর আসামি তিনি। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া? এক কথায়—হাস্যকর।

গত ৩১ অক্টোবর কে এম শাহরিয়ার শুভ হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করলে মামলাটি রূপ নেয় হত্যা মামলায়।

পল্টন থানা থেকে পাঠানো রিপোর্টে জানানোর পর দেখা যায়—একই ঘটনায় আরও আগে আরেকটি হত্যা মামলা রয়েছে।

বিচার-আইন-কানুন—এসব হাবীবের কাছে তুচ্ছ। মামলা থেকে নাম কাটাতে বাদীর ওপর চাপ, টাকার প্রলোভন, বার্তা—সবই চলছে। আর এই চেষ্টায় সহযোগী হিসেবে দেখা যাচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তা।

গণপূর্তের এক কর্মকর্তা ক্ষোভ নিয়ে বলেন—

“এই লোকটা ক্ষমতার কাছে ছিল বলেই এর কিছুই হবে না। যত টাকাই লাগুক, সে হত্যাকাণ্ড থেকেও বাঁচবে—এটাই সবাই জানে।”

শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তার সরকারের মন্ত্রী–এমপিরা গা ঢাকা দিয়েছেন, কিন্তু আহসান হাবীব?

তিনি এখনও অফিসে বসে ক্ষমতার চাবুক চালাচ্ছেন। যেন কিছুই হয়নি।

যাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের লড়ে রাস্তায় নেমেছিল, সেই গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ আমলাদের অন্যতম হচ্ছেন এ আহসান হাবীব। রাষ্ট্র ধসে পড়লেও তার অবৈধ সাম্রাজ্য অটুট।

ক্ষমতার দানবদের পতন হয়—এটাই ইতিহাস। কিন্তু আহসান হাবীবের মতো দুর্নীতিবাজদের বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের সামনে একটাই প্রশ্ন রেখে যায়

দেশ বদলায়, সরকার বদলায়—

কিন্তু ক্ষমতার বুকে ঘুণ ধরানো এই আহসান হাবীবরা কি কখনো বদলায়

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ.কে.এম আজাদ ও তার সহযোগীর প্রভাব ও সিন্ডিকেট

শত শত কোটি টাকার টেন্ডার লুটপাটের সম্রাট গণপূর্তের আহসান হাবীব

Update Time : ১২:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পরও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব এখনো বহাল তবিয়তে। ক্ষমতার ছায়ায় বড় হওয়া এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

টেন্ডারবাণিজ্য ছিল তার রাজত্ব, আর দুর্নীতি ছিল তার পরিচয়পত্র। ক্ষমতা বদলেছে, কিন্তু হাবীবের দাপট কমেনি—উল্টো আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন তিনি।

২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার লুটপাটের সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করে। যে বিভাগে যোগ দেন, সেই বিভাগের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডার চলে যায় তার ‘নিজস্ব দলের’ ঠিকাদারদের হাতে।

নিয়ম-আইন তার কাছে শুধু কাগজে। প্রভাব-প্রতিপত্তি আর কমিশন বাণিজ্যই ছিল তার প্রকৃত খেলা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্তের একজন কর্মকর্তা জানান—

“আহসান হাবীব হলো আওয়ামী আমলের বরপুত্র। তিনি যেখানে থাকেন, সেখানে ঘুষ আর টেন্ডার কমিশন ছাড়া একটা ইটও নড়ে না।”

তার নামে-বেনামে সম্পদের পরিমাণ এত বেশি যে তা গণনা করা সম্ভব নয়। নেপাল, মালয়েশিয়া, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে টাকা পাচারের অভিযোগও বহু আগেই উঠেছে। কিন্তু ক্ষমতার পাহারায় সে সব অভিযোগ সবশেষে ধুলোয় মিশে গেছে।

গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় অর্থ জোগান দেওয়া এবং পরিকল্পনায় থাকার অভিযোগও উঠেছে আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে।

রাজধানীর পল্টন থানার কুখ্যাত মামলা নং–৮৭৪-এর ৭০ নম্বর আসামি তিনি। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া? এক কথায়—হাস্যকর।

গত ৩১ অক্টোবর কে এম শাহরিয়ার শুভ হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করলে মামলাটি রূপ নেয় হত্যা মামলায়।

পল্টন থানা থেকে পাঠানো রিপোর্টে জানানোর পর দেখা যায়—একই ঘটনায় আরও আগে আরেকটি হত্যা মামলা রয়েছে।

বিচার-আইন-কানুন—এসব হাবীবের কাছে তুচ্ছ। মামলা থেকে নাম কাটাতে বাদীর ওপর চাপ, টাকার প্রলোভন, বার্তা—সবই চলছে। আর এই চেষ্টায় সহযোগী হিসেবে দেখা যাচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তা।

গণপূর্তের এক কর্মকর্তা ক্ষোভ নিয়ে বলেন—

“এই লোকটা ক্ষমতার কাছে ছিল বলেই এর কিছুই হবে না। যত টাকাই লাগুক, সে হত্যাকাণ্ড থেকেও বাঁচবে—এটাই সবাই জানে।”

শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তার সরকারের মন্ত্রী–এমপিরা গা ঢাকা দিয়েছেন, কিন্তু আহসান হাবীব?

তিনি এখনও অফিসে বসে ক্ষমতার চাবুক চালাচ্ছেন। যেন কিছুই হয়নি।

যাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের লড়ে রাস্তায় নেমেছিল, সেই গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ আমলাদের অন্যতম হচ্ছেন এ আহসান হাবীব। রাষ্ট্র ধসে পড়লেও তার অবৈধ সাম্রাজ্য অটুট।

ক্ষমতার দানবদের পতন হয়—এটাই ইতিহাস। কিন্তু আহসান হাবীবের মতো দুর্নীতিবাজদের বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের সামনে একটাই প্রশ্ন রেখে যায়

দেশ বদলায়, সরকার বদলায়—

কিন্তু ক্ষমতার বুকে ঘুণ ধরানো এই আহসান হাবীবরা কি কখনো বদলায়